1. nagorikit@gmail.com : admin :
  2. mdjoy.jnu@gmail.com : admin1 :
আজ- বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২, ১১:৫৮ অপরাহ্ন

একটি ইতিহাসের পুনঃজাগরণ : সাতক্ষীরার যশোরেশ্বরী মন্দিরে পুজো দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি

  • আপডেট করা হয়েছে শনিবার, ২৭ মার্চ, ২০২১
  • ৩২০ বার পড়া হয়েছে

মৌমিতা রায় ও সাথী বসু : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ শনিবার সকালে পুজো দিলেন বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা সুন্দরবনের কোলঘেষা শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর গ্রামের
ঐতিহাসিক যশোরেশ্বরী মন্দিরে। হিন্দু মাইথোলজি মতে, যশোরেশ্বরী মন্দিরটি সতীর ৫১পীঠের এক পীঠ। এখানে সতীমায়ের খন্ডিত দেহের হাতের তালু পড়েছিলো। সেই থেকে এটি গোটা বিশ্বের কোটি কোটি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের তীর্থস্থান, পুন্যভূমি।

মোদির আগমনের মধ্য দিয়ে ইতিহাস থেকে কয়েকশ বছর বিস্মৃত থাকা এই যশোরেশ্বরী মন্দিরটি আবার জাগ্রহ হলো কোটি কোটি মানুষের প্রাণে। মোদির আগমের ৫৮০বছর আগে মন্দিরটিতে শেষ বারের মতো ভারতবর্ষের জয়পুরের রাজা মানসিং এসেছিলেন ১৫৪০সালে।

বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকির অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গত ২৬মার্চ বাংলাদেশ সফরে আসেন ভারতের প্রধানন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাংলাদেশ সফরকালে ঢাকার বাইওে তার সফরসূচিতে যোগ হয় যশোরেশ্বরী মন্দির, টুঙ্গিপাড়া জাতির পিতার সমাধীস্থলে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের তীর্থভুমি শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুর বাড়ি মন্দিরে পুজো দেয়া।

২৭মার্চ সকালে হেলিকপ্টার যোগে ঈশ্বরীপুর গ্রামের পৌছান মোদি। হেলিপ্যাড থেকে সোজা চলে আসেন যশোরেশ্বরী মন্দির চত্বরে। মন্দির প্রাচীরের মুল ফকট থেকেই খালি পায়ে হেটে মন্দিরে প্রবেশ করেন ভারতে প্রধানমন্ত্রী। এ সময়ে দুই পাশে দাড়িয়ে থাকা মায়েরা তাকে শঙ্খ ও উলুর ধ্বনী দিয়ে স্বাগত জানান। মন্দির প্রদক্ষিণ করে মোদি অভ্যন্তরে রক্ষিত কালি মায়ের বিগ্রহে পুজো দেন। মন্ত্র উচ্চারণ করেন। মায়ের মাথায় গোল্ড প্লেটের মুকুট পরিয়ে দেন। পুজো শেষে আবার বেরিয়ে আসেন মন্দির অভ্যন্তর থেকে। উপস্থিত পুণ্যার্থীদের সাথে সৌজন বিনিময় করেন, ছবিও তোলেন।

সতীশ চন্দ্র মিত্র তার যশোর খুলনার ইতিহাস বইটিতে লিখেছেন, ১৫৬০ থেকে ১৫৮০ সাল পর্যন্ত রাজা লক্ষণ সেনের রাজত্বকালে কোন একদিন তিনি স্বপ্নে আদিষ্ট হন ঈশ^রীপুর এলাকায় একটি কালি মন্দির নির্মাণ করার ব্যাপারে। তিনি একটি মন্দির নির্মাণও করেন। তবে পরে সেটি বন্ধ রাখারও নির্দেশ দেন। বন্ধ থাকার কারণে মন্দিরটি জঙ্গলাকীর্ন হয়ে ওঠে।

এক সময়ে বাংলার ১২ভূঁইয়ার এক ভূঁইয়া রাজা প্রতাপাদিত্যের রাজধানী ছিলো এই সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগরের ধুমঘাট এলাকা। একদিন রাজা প্রতাপাদিত্য দেখতে পান ওই জঙ্গল থেকে আলোক রশ্মি বেরিয়ে আসছে। তখন তিনি মন্দিরটি খুলে দেয়ার নির্দেশ দেন। মন্দিও খুলতেই সেখানে দেখা মেলে চন্ডভৈরবের আবক্ষ শিলামূর্তি। সেই থেকে যশোরেশ্বরী মন্দিরে আবার পূজা অর্চনা শুরু হয়। কালের প্রবাহে সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে ঐতিহাসিক সতীমায়ের পীঠস্থানটি। তবে অতি সম্প্রতি ভারত সরকারের অর্থায়নে যশোরেশ্বরী মন্দিরটির ব্যাপক সংস্কার করার পর আজ দেশটির প্রধানমন্ত্রী পুজো দেন।

এদিকে মোদির সফরকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরার ঈশ্বরীপুর এলাকা ব্যাপক সাজানো হয়। সর্বোচ্চ নিরাপত্তার সার্বিক বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। খুশির জোয়ার নেমে আসে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে। সাতক্ষীরায় মোদির সফলকে কেন্দ্র ব্যপক সাজসজ্বা করা হয়।

মন্দিরের প্রধান পুজারি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মন্দিরে প্রবেশ করে প্রথম মাকে সেবা দেন। মায়ের মাথায় মুকুট পরান। মাকে শাড়ি দেন। তারপর আমি মন্ত্র উচ্চারণ করি। তিনিও আমার সাথে মন্ত্র উচ্চারণ করেন। পুজারির মতে, মোদিকে একেবারেই সাধারণ মানুষ মনে হচ্ছিলো। আমার সাথে কথা বললেন। আমার কথা শুনলেন। এমন একজন বিশাল ব্যক্তিত্বের মায়ের মন্দিরে আগমন, আর আমি পুজারি হিসেবে থাকা সত্যিই এটা আমার জন্য গর্বের, আনন্দের।

এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে পুজো দিতে পেরে খুশি ঈশ্বরীপুর এলাকার নারীরাও। তারা জানালেন, এত বড় ব্যক্তিত্বের সাথে পুজো দিতে পারবো এটা কখনও ভাবতেও পারিনি। মোদিজি আমাদের সাথে পুজো দিলেন, কুশল বিনিময় করলেন। জানতে চাইলেন আমরা নিয়মিত পুজো দিতে আসি কি না ? তারপর আমাদের সাথে ছবিও তুললেন। সত্যি এটা গর্বের বিষয়। আমরা খুবই খুশি। তাদের মতে, এটি একটি ইতিহাসের পুনঃজাগর।

 

 

 

 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
ডিজাইনঃ নাগরিক আইটি (Nagorikit.com)