1. nagorikit@gmail.com : admin :
  2. mdjoy.jnu@gmail.com : admin1 :
আজ- বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২, ১০:২১ অপরাহ্ন

ক্রেতা নেই মাঠের তরমুজ মাঠেই চাষীর মাথায় হাত !

  • আপডেট করা হয়েছে বুধবার, ১৮ মে, ২০২২
  • ১৫৮ বার পড়া হয়েছে

শুভংকর রায় ও রিংকু মল্লিক : ন্যায্য মুল্য না পাওয়ায় খুলনার তরমুজ চাষীদের এবার ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে উপকুলীয় দাকোপ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চাষীরা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে সর্বশান্ত হয়েছেন। মৌসুমের শুরুতের বাজারে তরমুজ বিক্রি উপযোগী না হওয়া, বেশি দাম পাওয়ার আশায় রোজার মাসে তরমুজ ক্ষেতে ধরে রাখা, অধিক মুনাফা লোভী ফরিয়াদের কারসাজি, ফসল ওঠার মৌসুমে প্রবল বৃষ্টি এবং অধিক মাত্রায় তরমুজের চাষ হওয়াই এই বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ বলে স্থানীয় চাষীরা জানিয়েছেন।

জানা গেছে, বিশেষ করে খুলনার দাকোপ উপজেলার ৯টি ইউনিয়নেই এবার তরমুজের চাষ হয়েছে। এবার গোটা উপজেলায় ৭ হাজার ৬০৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ হয়েছে। এছাড়াও খুলনার বটিয়াঘাটা, ডুমুরিয়া, রূপসা, তেরখাদাসহ বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাপক হারে তরমুজ চাষ হয়। স্বল্প সময়ের লাভজনক ফসল হওয়ায় দাকোপসহ কয়েক হাজার হাজার কৃষক তরমুজ চাষের দিকে ঝুকে পড়েন। মৌসুমের শুরুতেই কৃষি কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা ছিলো প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা এবার তরমুজ চাষ থেকে আয় হবে। তবে সব হিসাব নিকাশ এবার গুলিয়ে গেছে। ন্যায্য মুল্য না পেয়ে অধিকাংশ তরমুজ চাষীর মাথায় হাত, বিক্রি না হওয়ায় মাঠেই পড়ে রয়েছে অনেকের তরমুজ।

খুলনার দাকোপ উপজেলার বাজুয়া এলাকার চাষী বিধান রায় জানান, বিগত কয়েক বছর ধরে দাম পাওয়ায় এবার মোট ২২ বিঘা জমিতে তিনি তরমুজ চাষ করেন। তবে খুলনার অন্যতম এই অর্থকরী ফসলটির দামে এবার ব্যাপক ধ্বস নেমেছে। লাভ তো দুরের কথা খরচ পর্যন্ত ওঠেনি। বিধান জানান, ‘২২ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছিলাম। কোন মতে ১০ বিঘার তরমুজ বিক্রি করেছি। ১২ বিঘা জমির তরমুজ মাঠেই পড়ে আছে। দাম নেই, তাই বিক্রির আশা ছেড়েই দিয়েছি।’ তার মতে, এবার বাম্পার ফলন হলেও তরমুজ চাষ শুরু হয় বিলম্বে। যে কারণে বাজারে ওঠার মৌসুম পেরিয়ে যায়। তবে যারা রোজার মধ্যে বিক্রি করতে পেরেছে তাদের লাভ হয়েছে।

পশ্চিম বাজুয়া গ্রামের বাসিন্দা মিঠুন বিশ্বাস জানান, এবার তিনি ৭ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেন। কিছুটা অংশের তরমুজ বিক্রি করেছেন। আর ক্ষেতের অধিকাংশ তরমুজ পড়েই আছে। তার মতে, এলাকায় সিন্ডিকেটবাজ ফরিয়ারা কারসাজি করে প্রথম দিকে তরমুজ কেনেনি। পরবর্তীতে দামও পাওয়া যায়নি। আর খুলনায় নিয়ে বিক্রি করলে ট্রাক ভাড়া, লেবার খরচ, আড়ত খরচ মেটার পর আতে আর কিছুই থাকে না। তাই মাঠের তরমুজ মাঠেই ফেলে রেখেছেন মিঠুন।

তরমুজ চাষী দেবাশিষ জানান, গত বছর যে তরমুজ ৩০০ টাকা প্রতি পিচ বিক্রি করেছি সেই তরমুজ এবার প্রতি পিচ ৫০ টাকাও বিক্রি করতে পারছিনা। যে তরমুজ ক্ষেত গতবছর ১ লাখ টাকা বিক্রি হয়েছে, ফলন ভালো হওয়ার পরও সেই তরমুজ ক্ষেত এবার ৬/৭ হাজার টাকা বলছে। অনেকে অনেকে খুলনার মোকাবে তরমুজ বিক্রি করার জন্য নিয়ে গেলেও খরচ ট্রাক ভাড়া লেবার খরচ কোনটাই উঠছে না। আর সিন্ডিকেট ফরিয়াদের কারণে এবার ঢাকার ব্যবসায়ী পার্টিও আগ্রহ হারিয়েছে। সব মিলিয়ে আমরা চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছি।

জানা গেছে, এবার এক বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করতে খরচ হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। যারা পরের জমি হারি নিয়ে তরমুজ চাষ করেছেন তাদের প্রতি বিঘা জমিতে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা হারি দিতে হয়েছে। তরমুজের ফলন ভালো হলে, এ ক্ষেত্রে খরচ বাদে একজন চাষীর ঘরে ওঠে ৫০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা। কিন্তু এবার তেমনটি হয়নি। মাত্র শতকরা ১০ ভাগ চাষীর সামান্য লাভ হয়েছে। খরচ উঠেছে মাত্র শতকরা ২০ ভাগ মানুষের। আর লোকসানে পড়তে হয়েছে শতকরা ৭০ ভাগ তরমুজ চাষীর। সোমবার খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় ভ্যানে করে প্রতি কেজি তরমুজ ৩ থেকে ৪ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
ডিজাইনঃ নাগরিক আইটি (Nagorikit.com)