1. nagorikit@gmail.com : admin :
  2. mdjoy.jnu@gmail.com : admin1 :
আজ- বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২, ১১:১১ অপরাহ্ন

খাবার পানির সংকটে খুলনার কয়রার কয়েক হাজার মানুষ !

  • আপডেট করা হয়েছে সোমবার, ৩১ মে, ২০২১
  • ২২৫ বার পড়া হয়েছে

মৌমিতা রায় ও সাথী বসু : ইয়াসের প্রভাবে সৃষ্ট প্রবল জোয়ারে বাধ ভেঙ্গে খুলনার কয়রা উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। এখনও পর্যন্ত বিশেষ করে কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলার প্রায় অর্ধশত প্রাম জলাবদ্ধ রয়েছে। দুর্গত এসব এলাকার বাসিন্দারা অনেকেই ঘরে ফিরতে পারেননি। এরই মধ্যে দুর্গত এলাকারয় দেখা দিয়েছে খাবার পানির তীব্র সংকট। এই উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ খাবার পানির সংকট মোকাবেল করছেন।

জানা গেছে, বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে সরকারি ভাবে কিছুটা পানি সরবরাহ করা হলেও সংকট মোকাবেলা করতে হচ্ছে অধিকাংশ দুর্যোগ কবলিতদের। অনেকে দুরদুরান্ত থেকে নৌকা ও ভেলায় করে পানি সংগ্রহ করছেন। কিছু কিছু বেসরকারি সংস্থাও খাপার পানি দিচ্ছে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য। এছাড়া বেশি দামে ড্রাম ও বোতলজাত পানি কিনছেন কেউ কেউ। দ্রæত দুর্গত এসব এলাকায় খাবার পানি সংকট নিরসনে প্রয়োজীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে মাননিবক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলবর্তী সুন্দরবন সংলগ্ন কয়রা, দাকোপ, পাইকগাছা এবং ডুমুরিয়াসহ বেশ কয়েকটি উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে খাবার পানির তীব্র সংকট লেগেই থাকে। নলকুপ কাজ না করা, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা, জলোচ্ছাস-প্লাবনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আর্সেনিক দুষণ এবং পানির আধারগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়া এই পানি সংকটের মুল কারণ। তবে অতি সম্প্রতি বিশেষ করে কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলার কয়েকটি অঞ্চলে সেই সংকটকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে সম্প্রতি ইয়াসের প্রভাবে সৃষ্ট প্রবল জলোচ্ছাস। প্রবল জলোচ্ছাসে কয়রা-পাইকগাছায় দুর্বল বাধের অসংখ্য স্থানে ভেঙ্গে গেছে। প্রায় অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। চারদিকে পানি থৈ থৈ করছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ভেঙ্গে যাওয়া বাধ বাধা সম্ভব হলেও ৩০থেকে ৪০টি গ্রাম পানি নিচে রয়েছে।

রূপান্তর নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মকর্তা সৈয়দ আসাদুল হক জানান, জলোচ্ছাসের পর থেকে আমরা বিভিন্ন এলাকায় খোজ খবর নিয়েছি। আমাদের প্রাথমিক জরিপে দেখা গেছে বিশেষ করে কয়রা উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এসব ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ২৫হাজার মানুষ ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন। আর খাবার পানির সংকট মোকাবেল করতে হচ্ছে ৭ থেকে ১০ হাজার মানুষকে। তিনি আরো জানান, কয়রার বিভিন্ন এলাকায় জলোচ্ছাসের কারণে ১২ কিলোমিটার বাধ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্থ এসব বাধের ১৫টি স্থান ভেঙ্গেছে। অনেকেই দুরদুরান্ত থেকে পানি এনে খাবার পানির সংকট নিরসন করছেন। তাছাড়া সরকারি ভাবে এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকেও কিছু কিছু এলাকায় পানি সরবরাহ করা হয়েছে। তাছাড়া সম্প্রতি বৃষ্টিতে অনেক স্থানে নলকুপে পানি উঠছে আর অনেকে ওই পানি ধরে রেখে সংকট মেটাচ্ছে।

কয়রার বাসিন্দ শেখ হারুন জানান, পানি নামতে শুরু করেছে। তবে এখনও পর্যন্ত বেতকাশি, দশমিনা ও বাগালিসহ কয়েকটি এলাকার প্রায় ৩০ গ্রামে জলাবদ্ধতা রয়েছে। এসব জায়গার মানুষকে খাবার পানি সংকট মোকাবেলা করতে হচ্ছে। অনেকে দুরদুরান্ত থেকে নৌকা, ড্রামে করে পানি আনছেন। আবার যে সকল গ্রামের পানি নেমে গেছে সেবস এলাকা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

উত্তর বেতকাশি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে আমরা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাধগুলো মেরামত করতে সক্ষম হয়েছি। খাবার পানির সমস্যাও কিছু এলাকায় আছে। তবে যে সকল এলাকায় নলকুপ কাজ করছে সেই সকল এলকা থেকে অনেকে পানি নিয়ে চাহিদা মেটাচ্ছে। তার মতে, এ সংকট কেটে যাবে শিঘ্রই।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
ডিজাইনঃ নাগরিক আইটি (Nagorikit.com)