1. nagorikit@gmail.com : admin :
  2. mdjoy.jnu@gmail.com : admin1 :
আজ- শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২, ১২:২০ পূর্বাহ্ন

পদ্মের হাসি উত্তর খুলনার ভুতের বিলে !

  • আপডেট করা হয়েছে রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২০
  • ৪৪৩ বার পড়া হয়েছে

মনোজ মজুমদার : মোঃ জাভেদ ইকবাল। খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপ-প্রধান তথ্য কর্মকর্তা। বৈশ্বিক মহামারিতে অফিসবন্দি দৈনন্দিন কাজের ফাকে অবসাদ কিছুটা কাটাতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রত্যাশায় ছুটে যান উত্তর খুলনার পদ্মবিলে। সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নির্মল পরিবেশে সারাদিন ঘোরাঘুরি। অনাবিল আনন্দ। পদ্মবিলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ জাভেদ ইকবাল বলেন, ‘দুচোখ যে দিকে যায় সে দিকেই শুধু পদ্ম আর পদ্ম। সত্যিই চোখ জুড়ানোর মতো দৃশ্য। তার মতে, প্রাকৃতিক ভাবে ফোটা এই পদ্মফুলের বিলটিকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা যায় মৌসুমি পর্যটন কেন্দ্র। পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো গেলে এটি হতে পারে জলাবদ্ধ আর অজন্মা এলাকার ভুতের বিল সংলগ্ন হতদরিদ্র মানুষের বাড়তি কিছুটা আয়ের সুযোগ।’

এলাকার বাসিন্দা লিপিকা পাত্র একটি মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষিকা। পদ্মফুলের সৗন্দর্যে মুগ্ধ লিপিকা মাঝে মধ্যেই ছুটে যান পদ্মবিলে। তিনি জানান, ‘এই বিলের পদ্মের সৌন্দর্য, এই বিলের কৈ মাছের স্বাদ শহরের মানুষের মুখে মুখে। তার মতে, বিলের প্রাকৃতি সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হলে আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। জলাবদ্ধ এলাকার বাসিন্দাদের দুঃখ কিছুটা লাঘব হতে পারে।’

শুধুমাত্র জাভেদ ইকবার বা লিপিকা পাত্রই নন, পদ্মবিল নামে পরিচিত উত্তর খুলনার তেরখাদা উপজেলার ভুতিয়ার বিলটি এখন সৌন্দর্য প্রিয় মানুষের কাছে সাময়িক পর্যটন কেন্দ্র। বিশেষ করে ছুটির দিনে শহুরে অনেকেই ঘুরতে আসেন এই বিলে। কেউ বা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আবার কেউবা বন্ধুদের সাথে। বিল সংলগ্ন বিভিন্ন গ্রামের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও ভুতের বিলের পদ্মের সৌন্দর্য দেখতে আসে কখনও কখনও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এখন এই বিলের লেখনি ভাইরাল। আর পদ্মবিলে ঘুরতে আসা প্রকৃতি প্রেমী মানুষের ওপর ভিত্তি করে বিল সংলগ্ন এলাকার হতদরিদ্র কিছু মানুষ খুজে জীবীকায়নের পথ। করোনা ভাইরাস মহামারির এই দুর্যোগে স্থানীয় পর্যটকদের কাছ আসা অর্থ তাদের কাছে অনেক বড় কিছু বলে মনে করেন তারা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, খুলনার তেরখাদা উপজেলা এবং নড়াইলের কালিয়া উপজেলার কিছু অংশ নিয়ে ভুতের বিল। পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বহুবছর ধরে এই বিলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এই বিলের আয়াতন প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর। এর মধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হেক্টর জমিতে পদ্মফুল ফোটে। আর গোটা বিলেই শ্যাওলা ও আগাছায় ভরা। এই বিলের চারদিকে ২২টির মতো গ্রাম রয়েছে। আঠারোবাকি ও চিত্রা নদী দিয়েই মুলত বিলের পানি নিষ্কাশিত হয়। তবে নদীগুলো এখন মরে গেছে। ভরাট হয়ে গেছে বিলের মধ্যে দিয়ে এক সময়কর প্রবাহমান খালগুলো। তাই বছরের পর বছর জলাবদ্ধ ভুতের বিল।

জনশ্রæতি রয়েছে, এক সময় প্রচুর কচুরিপান ছিলো এই ভুতের বিলে। এগুলো পচে গ্যাস তৈরি হতো। আর রাতের আধারে সেই গ্যাস জ্বলে উঠতো। দুর থেকে বিলের পাড়ের বাসিন্দারা মনে করতেন ভুতে আগুন জ্বালছে। এভাবে সময়ের প্রবাহে বিলটিতে পরিবর্তন এসেছে। গত কয়েক বছর আগুন আর জ্বলে না। তবে পদ্ম ফুটতে শুরু করেছে। যেহেতু বিলে এখন পদ্ম ফুটছে তাই ভুতের বিল নাম বদলে এর নাম হয়েছে পদ্ম বিল। ভুতের বিলে এখন পদ্মের হাসি !

পদ্ম বিল এলাকার বাসিন্দা মুক্তি দাশ জানান, ছুটির দিনে অনেকেই শহর থেকে পদ্মবিলে আসেন। এসব পর্যটকদের ঘুরিয়ে দেখানোর জন্য বিল পাড়ের ৪/৫টি স্থানে নৌকা নিয়ে শতাধিক মানুষ রয়েছেন। সামান্য টাকার বিনিময়ে এসব দরিদ্র মানুষ পর্যটকদের ঘুরিয়ে দেখান। নৌকায় লোক ধারণের ক্ষমতা এবং সময় হিসেবে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন। তার দাবি সরকার যদি পর্যটন উপযোগী করে তোলেন তবে এটি হতে পারে স্বল্প আয়ের এলাকাবাসীর আত্মকর্ম সংস্থানের মাধ্যম।

এ ব্যাপারে তেরখাদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিমুল কুমার সাহা জানান, পদ্মবিলকে কেন্দ্র করে মৌসুমি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহদয় মোঃ হেলাল হোসেনের নির্দেশে একটি প্রকল্প করে তার দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মতে, এই বিলের পাশে ছোট ছোট ঘর, গাড়ি পার্কিং এর ব্যবস্থা এবং কিছু খাবারের দোকান করা গেলে দুরদুরান্তের পর্যটকরা এখানে আসতে পারবেন। আর পর্যটনকে কেন্দ্র করে এই এলাকার মানুষের আয়ের সুযোগও সৃস্টি হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
ডিজাইনঃ নাগরিক আইটি (Nagorikit.com)