1. nagorikit@gmail.com : admin :
  2. mdjoy.jnu@gmail.com : admin1 :
আজ- বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২, ১০:৫১ অপরাহ্ন

পানীয় জলের সংকট নিরসনে রামপাল পাওয়ার প্লাট কাজ করছে

  • আপডেট করা হয়েছে বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২০
  • ৩৬৫ বার পড়া হয়েছে

মৌমিতা রায় : মাত্র কিছু দিন আগের কথা। বুড়ির ডাঙ্গার বাসিন্দা শান্তি মন্ডলকে এক সময় ১০কিলোমিটার পায়ে হেটে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হতো। স্ত্রীর কষ্টের কথা চিন্তা করে হাড়ভাড়া পরিশ্রমের পরও শান্তি খাবার পানি সংগ্রহে কোমর বেধে নামতেন। রামপালের ঝলমলিয়া দিঘি থেকে পনি আনতে অনেকটা সময় ব্যয় হতো। ফলে সংসারের অন্য কাজে নজর দেয়া সম্ভব ছিলো না তার। কিন্তু এখন আর সেই দিন নেই। এলাকায় পানির প্লান্ট বসেছে। সেখান থেকে যতখুশি সংগ্রহ করা যাচ্ছে বিশুদ্ধ খাবার পানি। এ জন্যে টাকা বা সময় কোনটাই তেমন ব্যয় হচ্ছেনা। হাতের কাছে পানি পেয়ে ভীষণ খুশি এই মন্ডল পরিবার।

গৃহবধু রূপার স্বামী কৃষ্ণ মিস্ত্রি বেসরকারী একটি প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী শ্রমিক। কাক ডাকা ভোরে তাকে ছুটতে হয় কাজে। তাই বাধ্য হয়েই স্ত্রী রূপাকে সংসারের সকল কাজ সামলানোর পাশাপাশি খাবার পানিও সংগ্রহ হয়। দুই থেকে আড়াই ঘন্টা পায়ে হেটে খাবার পানি সংগ্রহ ? রূপার কাছে এটি ছিলো গোদের ওপর বিষ ফোঁড়ার মতো। তবে মাস দেড়েক হলো সেই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি মিলেছে রূপার। এখন মাত্র ১০মিনিট হাটলেই পাচ্ছেন বিশুদ্ধ খবার পানি। এ যেন রূপার কাছে রূপকথার গল্পের মতো।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রামপাল-মোংলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দাদের খাবার পানির জন্য পুকুর. দিঘি বা বৃষ্টির ওপর নির্ভর করতে হয়। কারণ উপকূলীয় এই এলাকা লবনাক্ত। লবনের মাত্রা এত বেশি যে নলকুপেও খাবার উপযোগি পানি ওঠে না। বর্ষা মৌসুমে মাইটে (মাটির তৈরী পাত্র) বা ড্রামে করে ধরে রাখা পানি আর এলাকার কয়েকটি পুকুর-দিঘি হচ্ছে পানিয় জলের চাহিদা মেটার অন্যতম উৎস। আর বুড়ির ডাঙ্গা এলাকার কয়েক হাজার মানুষের খাবার পানির একমাত্র আধার ঝলমলিয়া দিঘি। পানির জন্যে লড়াই করার এ পরিস্থিতি রামপাল-মোংলা এলাকার বাসিন্দাদের চলে আসছে বুহু বছর ধরে। তবে এখন পরিস্থিতি পাল্টাচ্ছে।

রামপাল পাওয়ার প্লান্টের পক্ষ থেকে সামাজিক কর্মকান্ডের অংশ হিসেবে মোংলা উপজেলার বুড়ির ডাঙ্গা ইউনিয়নে একটি বিশুদ্ধ খাবার পানির প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। এটি স্থাপিত হওয়ার পর থেকেই ওই এলাকার মানুষের পানি সংকট অনেকটাই লাঘব হয়েছে। একদিকে যেমন বিশুদ্ধ পানি পাওয়া যাচ্ছে অন্যদিকে অল্প সময়ের মধ্যে নারীরাই পানি সংগ্রহ করতে পারছেন। এখন আর পুরুষদের কাজ ফেলে পানি সংগ্রহে ১০ কিলোমিটার হাটতে হচ্ছে না, টাকাও ব্যয় হচ্ছেনা এ জন্যে। তাই বেজায় খুশি মোংলার বুড়ির ডাঙ্গাসহ পাশবর্তী কয়েকটি গ্রামের মানুষ।

গাড়ি চালক সৌরভ মিত্রের স্ত্রী গৃহবধু মিতা মিত্র জানান, তার স্বামীর সামান্য আয়। সংসারের খরব মেটাতে হিমশিম খেতে হয়। তার ওপর পানি পর্যন্ত কিনে খেতে হয়। কিছুদিন আগেও ৩০ লিটার পানি ৫০টাকা দিয়ে কিনে আনতে হয়েছে। তা আবার দিঘির পানি। তবে বর্তমানে ছেলে মেয়েকে বিশুদ্ধ পানীয় জল দিতে পারছি। ওদের শারীরিক স্বাস্থ্য আগের তুলনায় ভালো। আর এটা সম্ভব হয়েছে রামপাল পাওয়ার প্লান্টের কারণে।

বুড়ির ডাঙ্গার বাসিন্দা অধ্যাপক মাহাবুবর রহমান জানান, আমাদের চারদিকে অনেক পানি। কিন্তু পানীয় জলের ভীষণ অভাব। বিশুদ্ধ খাবার পানির কথা আমরা কখনও ভাবতেও পারিনি। বৃষ্টির পানি এবং এলাকার পুকুর-দিঘির ওপরই আমরা সারা বছর নির্ভরশীল। তবে সম্প্রতি রামপাল পাওয়ার প্লান্টের পক্ষ থেকে বুড়ির ডাঙ্গায় একটি পানির প্লান্ট বসানো হয়েছে। বুড়ির ডাঙ্গা, ভাটার আবাদ, কামার ডাঙ্গা, টেপমারীসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষের ভীষণ উপকার হচ্ছে। আমরা বিশুদ্ধ পানি। এখন আর মানুষকে পয়সা দিয়ে দিঘির পানি আনতে হচ্ছেনা। নারীদের খাবার পানি সংগ্রাহে ঘন্টার পর ঘন্টা হাটতে হচ্ছেনা। শুধু তাই নয়, পেটের পীড়ায় ভুগতে হচ্ছেনা।

স্থানীয় বুড়ির ডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান নিখিল রঞ্জন রায় জানান, তার ইউনিয়নে ১৪টি গ্রাম। প্রায় ১৪ হাজার বাসিন্দা রয়েছে। প্রাকৃতি উৎস থেকে প্রাপ্ত পানির ওপরই সবাইকে নির্ভর করতে হয়। পানীয় জলের সমস্যা তার এলাকায় বুহু বছরের। বৃষ্টি, দিঘি আর পুকুরের পানিই খাবার পানির উৎস। তবে আর্থিক ভাবে খুব স্বচ্ছল কিছু মানুষ বোতলজাত পানি পান করেন। আর অধিকাংশ মানুষকে নির্ভর করতে হয় প্রাকৃতিক উৎসের অনিরাপদ পানির ওপর। কিছু দিন হলো রামপাল পাওয়ার প্লান্টের পক্ষ থেকে বিশুদ্ধ পানির প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। এতে খুব উপকার হচ্ছে এলাকার মানুষের। তবে একটি মাত্র প্লান্ট হলে হবে না, আরো কয়েকটি প্লান্ট বাসানোর দাবি এই জন প্রতিনিধির।

বিআইএফপিসিএল (বাংলাদেশ ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশীপ পাওয়ার কোম্পানী প্রাইভেট লিমিটেড) এর ডেপুটি ম্যানেজার (পাবলিক রিলেশন) তরিকুল ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে রিভার ওসমোসিস প্রযুক্তি সমৃদ্ধ একটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট বাসানো হয়েছে বুড়ির ডাঙ্গায়। এই প্লান্টে প্রতি ঘন্টায় ১হাজার লিটার পানির উৎপাদন সম্ভব। আর সব সময় ৫হাজার লিটার পানি ধরে রাখা যাবে। ৩ থেকে সাড়ে ৩শ পরিবার এই প্লান্ট থেকে বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ পাবে।

জানা গেছে, প্লান্ট স্থাপনে জমি দাতা অনিন্দ সুন্দরকে সভাপতি করে এটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি অনিন্দ জানান, পানির জন্যে কোন গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়না। তবে বিদ্যুত বিল, দারোয়ান, সংস্কারসহ বিভিন্ন কাজের জন্য প্রতি ২০ লিটার পানির জন্য মাত্র ৫ টাকা করে নেয়া হয়। চার বছর পর থেকে গচ্ছিত এই টাকায় পানির প্লান্টের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলবে।

বিআইএফপিসিএ’র প্রকল্প পরিচালক মো. রেজাউল করিম জানান, কমিউনিটি ডেভলেপমেন্ট কাজের অংশ হিসেবে লবনাক্ত প্রবন এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরণের কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে রামপাল পাওয়ার প্লান্টের পক্ষ থেকে। মাইল স্টোন হিসেবে বুড়ির ডাঙ্গা এলাকায় প্রথম একটি আরও প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। পার্শবর্তী গৌরম্ভা ও  রাজনগর ইউনিয়নেও খুব শিঘ্রই এ ধরণের পানি বিশুদ্ধকরণ প্লান্ট বসানো হবে। বিদ্যুত কেন্দ্রটি উৎপাদনে গেলে সিএসআর এ বরাদ্দকৃত অর্থে এই এলাকায় ব্যাপক ভাবে বুহুমখি উন্নয়নমুল কর্মকান্ড পরিচালিত হবে। প্রতি বছর প্রায় ৩০ কোটি টাকা এ খাতে ব্যয় করা সম্ভব হবে।

এ ব্যাপারে রামপাল-মোংলার নির্বাচিত সংসদ সদস্য বন পরিবেশ ও জলবুয়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপ-মন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার জানান, বুড়ির ডাঙ্গায় স্থাপিত পানির প্লান্ট এলাকার মানুষের যথেষ্ট উপকারে আসবে। তার মতে, এখনও বিদ্যুত কেন্দ্রটি নির্মাণাধীন, উৎপাদনে যায়নি। তারপরও এলাকার মানুষের উন্নয়নমুলক কাজ করা হচ্ছে আমি বিশ^াস করি উৎপাদনে যাওয়ার পর বিপুল সংখ্যক মানুষ রামপাল পাওয়ার প্লান্ট থেকে উপকৃত হবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
ডিজাইনঃ নাগরিক আইটি (Nagorikit.com)