1. nagorikit@gmail.com : admin :
  2. mdjoy.jnu@gmail.com : admin1 :
আজ- বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২, ১১:০৬ অপরাহ্ন

প্রতিষ্ঠার তিন দশকে খুলনা বিশ্বদ্যিালয়ের অনেক অর্জন 

  • আপডেট করা হয়েছে বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০
  • ৩৭৯ বার পড়া হয়েছে

মল্লিক সুধাংশু : খুলনা মহানগরীর প্রাণ কেন্দ্র থেকে মাত্র ৩কিলোমিটার অতিক্রম করলেই খুলনা-সাতক্ষীরা সড়কের বা পাশে দেখা যাবে দৃষ্টি নন্দন আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি আগলে থাকা ‘গল্লামারী স্মৃতি সৌধ।’ ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এটি ছিলো বধ্যভূমি। ঠিক তার মাত্র কয়েক গজ মাথায় ডান পাশে চোখ ঘোরালেই খুবির ক্যাম্পাস চত্বরে দেখা যাবে বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুবিশাল মুরাল আর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক। মহানগরীর ময়ূর নদীর পাশে এক মনোরম পরিবেশের এই গল্ল¬ামারীতে প্রতিষ্ঠিত হয় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। ক্যাম্পাসের অবকাঠামো, মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক বিভিন্ন নিদর্শন আর সবুজের সাজসজ্জা আর শান্ত পরিবেশে মুগ্ধ হতেই হবে সবাইকে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ আন্দোলনের ফসল খুলনাঞ্চলের উচ্চশিক্ষার অন্যতম বিদ্যাপীঠ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এমনই মনোরম পরিবেশের মধ্য দিয়ে অর্জনকে সামনে রেখে আজ মঙ্গলবার তিন দশক পুর্ণ করতে যাচ্ছে। একই সাথে দিবসটি পালিত হচ্ছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবেও। ২০০২ সালের ২৫ নভেম্বর ব্যপক উৎসাহ উদ্দিপনার মধ্য দিয়ে প্রথম বারের মতো বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালন করে খুবি। সেই থেকে প্রতি বছর এই দিনটি ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনার মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। এবারও বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালনে উৎসাহের কোন ঘাটতি নেই। বর্ণাঢ্য সাজে সাজানো হয়েছে খুবিকে। তবে সবকিছু হবে বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধের বিষয়টি মাথায় রেখে, স্বাস্থ্য বিধি মেনে। তাই এবারের অনুষ্ঠান অনেকটাই কাটছাট করা হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ সংশ্লিষদের কারো মনে আনন্দের কোন খামতি থাকছে না।

এদিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড.মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান এবং প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ হোসনে আরা চ্যান্সেলর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ভাইস-চ্যান্সেলর তার শুভেচ্ছা বার্তায় দেশবাসীসহ খুলনার সর্বস্তরের মানুষকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নিরবিচ্ছিন্নভাবে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শিক্ষাকার্যক্রমের ৩০ বছর পূর্তি নিঃসন্দেহে দেশে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিশেষ অর্জন ও গৌরবের বিষয়। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে অমিত সম্ভাবনা। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনে এগিয়ে নিতে আমরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদেরকে অতীতের অভিজ্ঞতায় বর্তমানের প্রচেষ্টায় আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নতুন উদ্যমে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। গত ১০ বছর বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত আনুকূল্যে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প বরাদ্দে বিভিন্ন উন্নয়ন অবকাঠামো বাস্তবায়নের ফলে বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ণাঙ্গতার পথে রয়েছে। চলতি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ২০২২-২৩ সালের মধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যমত শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পূর্ণাঙ্গরূপ পরিগ্রহ করবে।

প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ হোসনে আরা তার শুভেচ্ছা বর্তায় বলেছেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এতদাঞ্চলের মানুষের আন্দোলন সংগ্রামের ফসল। সঙ্গত কারণেই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে মানুষের আশা-আকাঙ্খা অনেক বেশি। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সে বিষয়টি ধারণ করেই সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রমের তিনদশক পূর্তি নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বড় অর্জন। আগামী দিনেও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এই সাফল্যের ধারা অব্যহত রেখে অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে সে প্রত্যাশা করি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর ১৯৮৭ সালের ৪ জানুয়ারি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। ১৯৮৯ সালের ৯ মার্চ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করা হয়। ১৯৯০ সালের জুলাই মাসে জাতীয় সংসদে ‘খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আইন-১৯৯০’ পাশ হয়। এটি গেজেট আকারে প্রকাশ হয় একই বছর ৩১ জুলাই। এরপর ১৯৯০-৯১ শিক্ষাবর্ষে ৪ টি ডিসিপ্লি-নে ৮০ জন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা হয়। ১৯৯১ সালের ৩০ আগস্ট প্রথম ওরিয়েন্টেশন এবং ৩১ আগস্ট ক্লাস শুরুর মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রমের সূচনা হয়। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালের ২৫ নভেম্বর শিক্ষাকার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ২০০২ সালের ২৫ নভেম্বর ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ও আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে পালন করা হয় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। সেই থেকে প্রতিবছর ২৫ নভেম্বর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। একই সাথে সেশনজট, সন্ত্রাস ও রাজনীতিমুক্ত খুলনাঞ্চলের বৃহত্তম এই  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কার্যক্রমের ৩০বছর পূর্ণ করলো।

জানা যায়, প্রতিষ্ঠাকালে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ছিলো নবম। এটি ছিলো একটি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়। তবে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী এখানে বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা, চারুকলাসহ অন্যান্য বিষয়ের প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বুয়েটের পরই ১৯৯৭-৯৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোর্স ক্রেডিট পদ্ধতি চালু হয়। বর্তমানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮টি স্কুল (অনুষদ) রয়েছে। এখানে মোট ২৯ টি ডিসিপ্লিনে (বিভাগ) শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়মিত ব্যাচেলর ডিগ্রি, ব্যাচেলর অব অনার্স ডিগ্রি, মাস্টার্স ডিগ্রি, এম ফিল এবং পিএইচডি প্রদান করা হয়।

সূত্রমতে, স্কুলগুলোর মধ্যে কলা ও মানবিক স্কুলের আওতায় রয়েছে ইংরেজি, বাংলা এবং ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিন। আইন স্কুলের আওতায় রয়েছে আইন ডিসিপ্লিন। জীব বিজ্ঞান স্কুলের আওতায় রয়েছে এগ্রোটেকনোলজি, বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স, ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি, ফরেষ্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজি, ফার্মেসি ও সয়েল, ওয়াটার এন্ড এনভায়রনমেন্ট ডিসিপ্লি-ন। ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুলের আওতায় রয়েছে ব্যবসায় প্রশাসন এবং হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট ডিসিপ্লিন। বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুলের আওতায় রয়েছে আর্কিটেকচার, আরবান এন্ড রুরাল প্লানিং, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেক্ট্রনিক্স এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়নবিজ্ঞান এবং পরিসংখ্যান ডিসিপ্লিন। সমাজ বিজ্ঞান স্কুলের আওতায় আছে অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান, ডিভেলপমেন্ট স্টাডিজ ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লি¬ন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা স্কুলের আওতায় তিনটি ডিসিপ্লিন চালু রয়েছে, এগুলো হলো ড্রইং এন্ড পেইন্টিং, প্রিন্টমেকিং ও ভাষ্কর্য ডিসিপ্লিন। শিক্ষা স্কুলের অধীন রয়েছে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট।

জানা যায়, দেশের মধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ¯œাতক পর্যায়ে নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা ডিসিপ্লিন, ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিন, বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিন, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ডিসিপ্লিন এবং ঢাকার বাইরে স্থাপত্য ডিসিপ্লিন ও কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিন প্রথম চালু হয়। দেশের মধ্যে ফরেস্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২য় হিসেবে চালু হয়। সুন্দরবন ও উপক‚ল নিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের মধ্যে প্রথম স্থাপিত হয়েছে ইনস্টিটিউট ফর ইন্টিগ্রেটেড স্টাডিজ অন দ্য সুন্দরবনস এন্ড কোস্টাল ইকোসিস্টেম (আইআইএসএসসিই)। এছাড়া রিসার্চ সেল, মডার্ণ ল্যাংগুয়েজ সেন্টার ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় স্টাডিজ শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা-গবেষণার মান বিশ্বমান অর্জনে সেন্টার অব এক্সেলেন্স ইন টিচিং এন্ড লার্নিং (সিইটিএল) এবং ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং বিশ্বের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যৌথ শিক্ষা-গবেষণা জোরদারে ইন্টারন্যাশনাল অফিস স্থাপন করা হয়েছে।

খুবিতে বর্তমানে শিক্ষক সংখ্যা প্রায় ৫শত। ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে প্রায় সাত হাজার। কর্মকর্তা রয়েছেন ৩শতাধিক এবং কর্মচারি রয়েছে প্রায় ৩শত। শিক্ষাকার্যক্রমের গত ৩০ বছরে ২৬ টি ব্যাচে থেকে উত্তীর্ণ গ্রাজুয়েট সংখ্যা ১৩ সহ¯্রাধিক। যারা দেশে-বিদেশে দক্ষতা, সুনাম ও সাফল্যের সাথে নানা পেশায় কাজ করছেন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে এক তৃতীয়াংশই পিএইচডি ডিগ্রিধারী।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ বিশেষ করে নবীন শিক্ষকবৃন্দ যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহ, অষ্ট্রেলিয়া, জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে উল্লে¬খযোগ্য সংখ্যায় স্কলারশীপ পাচ্ছেন। দেশি-বিদেশি সংস্থার গবেষণা সহায়তাও বাড়ছে। শিক্ষা ও গবেষণা কর্মকাÐের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন বিদেশি সংস্থা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও উন্নত বিশ্বের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। প্রতিবছর আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার বিশেষজ্ঞগণ, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর, বিজ্ঞানী ও গবেষকগণ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন।

সুত্র মতে, জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়, নেপালের কেআইএএস বিশ্ববিদ্যালয়, সারওয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের মেকানিকাল বিভাগ মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স (এলআইপিআই) এর বায়োমেটিরিয়ালস সেন্টার এবং জার্মানির স্টুটগার্টস ইউনিভার্সিটির সাথে শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে। যুক্তরাজ্যের লিডস ইউনিভার্সিটি ও লিভারপুল জন মুরস ইউনিভার্সিটির সাথে যৌথ গবেষণা প্রোগ্রাম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। আন্তঃমহাদেশীয় একটি গবেষণা প্রকল্পের বাংলাদেশ অংশে নেতৃত্ব দিচ্ছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রয়েছে ৩টি একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, ভাইস-চ্যান্সেলরের বাসভবন, পাঁচটি আবাসিক হল, মেডিকেল সেন্টার, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের জন্য ৫টি বাসভবন, অগ্রণী ব্যাংক ভবন, ডাকঘর, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় মন্দির। ছাত্র-ছাত্রী এবং শিক্ষকদের জ্ঞান সহায়তায় রয়েছে সমৃদ্ধ কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ভবন। এছাড়া চলতি প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের উর্দ্ধমুখী (৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা) সম্প্রসারণ, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের পার্শ্বমুখী (১ম-৬ষ্ঠ তলা) ও উর্দ্ধমুখী (৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা) সম্প্রসারণ, মাইকেল মধুসূদন দত্ত গেস্ট হাউজের পার্শ্ব এবং উর্ধ্বমূখী, আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় কেন্দ্রীয় গবেষণাগার ভবনে উর্ধ্ব ও পার্শ্বমুখী সম্প্রসারণের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে সাত তলা আইইআর ভবন ও মেডিকেল সেন্টারের নির্মাণ শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, জিমনেসিয়াম এবং সুউচ্চ এবং সর্ববৃহৎ আয়তনের ১০ তলা জয়বাংলা একাডেমিক ভবন, ১১ তলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবনের নির্মাণ কাজ শীঘ্রই শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উচ্চশিক্ষার বিকাশে স্থানীয় সম্পদ আহরণ, উন্নয়ন ও সংরক্ষণের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, প্রশিক্ষিত, দক্ষ ও মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন জনসম্পদ সৃষ্টি, জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা শাখায় উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে দেশকে সমৃদ্ধির সোপানে এগিয়ে নেয়া এবং সম্ভাবনার নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণার কাজ এগিয়ে চলেছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষা সাফ্যল্যের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে অগ্রসর হচ্ছে তার অভীষ্ট্য লক্ষ্যে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
ডিজাইনঃ নাগরিক আইটি (Nagorikit.com)