1. nagorikit@gmail.com : admin :
  2. mdjoy.jnu@gmail.com : admin1 :
আজ- বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২, ১১:১২ অপরাহ্ন

প্রান্তিক চাষী থেকে ক্রেতার হাতে পৌছাতে মন প্রতি শসার দাম বাড়ছে ৭শ টাকা !

  • আপডেট করা হয়েছে বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২০
  • ৪৬২ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : খুলনার তেরখাদা উপজেলার আজগড়া গ্রামের সবজি চাষী সুভাষ রায়। ধার দেনা করে তিন বিঘার একটি ঘেরের পাড়ে শসার চাষ করেছিলেন। বর্তমানে শসা উঠতে শুরু করেছে। তবে আশানুরূপ দাম পাচ্ছেন না। করোনা ভাইরাসের অজুহাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা সিডিন্ডকেট করে প্রান্তিক চাষীদের ঠকাচ্ছে। সুভাষ জানান, গত মৌসুমে এই সময়ে যে শসার দাম ছিলো মন প্রতি ১হাজার থেকে ১২টাকা এবার তা বিক্রি করতে হচ্ছে ৪শ থেকে সাড়ে ৪শ টাকা। মধ্যসত্বাভোগী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট না ভাঙলে সবজির দাম পাওয়া যাবেনা। এরফলে শত শত চাষীকে দেয়ার দায়ে ডুবতে হবে।
একই এলাকার গরীব চাষী আকু মিয়া। তিনি জানান, কয়েক বিঘা জমিতে শসার চাষ করেছি এবার। ফলন ভালোই হয়েছে। গ্রামে বেশ কয়েকটি আড়ত বসেছে। এসব আড়ত ব্যবসায়ীরা এলাকার চাষীদের শসা কিনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান দিচ্ছে। তবে দাম তেমন একটা পাওয়া যাচ্ছেনা। পাইকারি ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে শসার দাম কমিয়ে রাখছে।
স্থানীয়রা বলছেন, খুলনার তেরখাদা, ডুমুরিয়া, রূপসা, দিঘলিয়াসহ বিভিন্ন উপজেলায় হাজার হাজার মাছের ঘের রয়েছে। এসব ঘেরে সাধারণত গলা চিংড়ি ও সাদা মাছের চাষ হয়। ছোট-বড় অধিকাংশ এসব ঘেরের মানুষ এলাকার প্রান্তিক চাষীরা। নানান প্রতিকুলতার কারণে বেশ কয়েক বছর ধরে চাষীরা লোকসান কাটাতে একই জমিতে বহুমুখি চাষ করে আসছে। তারই অংশ হিসেবে শসার চাষ করা হয়। শসা ছাড়াও চিংড়ি ঘেরের এসব জমিতে মৌসুম অনুযায়ী ঢেড়শ, লাউ, জালি, উচ্ছে, করোলা, কুমড়ো, টমেটোসহ নানান সবজির চাষ হয়। মাছের পাশাপাশি বহুমুখি ফসল চাষের কারণে পুষিয়ে চায় চাষীদের। তবে বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবারের চিত্র ভিন্ন। মাছ বা শসা কোনটাই যেন চাষীদের অনুকুলে নেই।
তেরখাদার ছাগলাদা ইউনিয়নের মন্ডলগাতি গ্রামের বাসিন্দা বাচ্চু শেখ জানান, এক বিঘা জমিতে শসা চাষের জন্য চাষীদের বীজ ক্রয়, হাঙ্গি দেয়া, নেট জাল কেনাসহ সব মিলিয়ে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতি সপ্তায় ২ থেকে ৩ বার শসা বিক্রি করা যায়। ফলন ভালো হলে দুই মাস পর্যন্ত শসা বিক্রি করা যায়। ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা আয় হয়। সার্বিক খরচ বাদে এক বিঘার ঘের থেকে ১৫ থেকে শসা বিক্রি করে ২০ হাজার টাকা লাভ করা যায়। তবে এবার বিশ্ব মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে এবার সেই পরিস্থিতি নেই। অনেকেই ঠিকমত শসার চাষ করতে পারেনি। আর যারা পেরেছে তারাও দাম পাচ্ছেনা। তবে তার আশা করা যাচ্ছে কয়েক দিনের মধ্যে মন প্রতি শসার দাব ২/৩টাকা বাড়তে পারে।
ডিপো মালিক আকরাম জানান, ফড়িয়ারা দাম বেশি না দিলে আমাদের কিছুই করার থাকেনা। আমরা শসা কিনে দিলে মন বা কেজি প্রতি একটা কমিশন পেয়ে থাকি। আকরামের মতে, পাইকারী ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে এলাকার চাষীদের ঠকাচ্ছেন এতে কোন সন্দেহ নেই। তবে এমনটি খুব শিঘ্রই বন্ধ হবে বলে মনে করেন তিনি। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে অধিক সংখ্যক পাইকারী ব্যবসায়ীরা এলাকায় আসা শুরু করলে দামও বাড়বে।
এদিকে খুলনার বিভিন্ন কাচা বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি শসার খুচরা মুল্য ৩০ থেকে ৩৫টাকা। সে হিসেবে এক মন শসা খুচরা বাজাওে বিক্রি হচ্ছে অন্তত ১২শ টাকা। এসব খুচরা ব্যবসায়ীরা খুলনার আড়ত থেকে ৭ থেকে ৮শ টাকা মন কিনছেন। আর তেরখাদা বা জেলার বিভিন্ন এলাকার শসা চাষীদের কাছ থেকে খুলনার পাইকারী বাজারে শসা পৌছাতে মন প্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা খরচ পড়ছে। সে হিসেবে চাষীর কাছ থেকে ভোক্তার হাত পর্যন্ত পৌছাতে প্রতি মন শসার দাম বাড়ছে ৭শ টাকার মতো, যা মধ্যস্বত্বা ভোগীর লাভ করছে। এই তালিকায় রয়েছে ডিপো মালিক, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা।
আজগড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কৃষ্ণ মেনন রায় জানান, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের প্রত্যেকটিতেই এই সময়ে শসার চাষ হয়ে থাকে। কয়েক হাজার শাসী এর সাথে জড়িত আর এই শসার ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার পাশে গড়ে উঠেছে ডিপো। মধ্যস্বত্বাভোগী এলাকার মানুষ চাষীদের কাছ থেকে শসা ক্রয় করে ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকারী ব্যবসায়ীদের কাছে ট্রাক ও মিটি ট্রাকে পাঠিয়ে দেন। তার মতে, এবার ভালোই ফলন হয়েছে, তবে দাম আগের মতো নেই। লোকসান গুনতে হচ্ছে সাধারণ চাষীদের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
ডিজাইনঃ নাগরিক আইটি (Nagorikit.com)