1. nagorikit@gmail.com : admin :
  2. mdjoy.jnu@gmail.com : admin1 :
আজ- বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২, ১১:৩৩ অপরাহ্ন

সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে আসছেন মোদি : যশোরেশ্বরী ও শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুর বাড়ি পরিদর্শন করবেন

  • আপডেট করা হয়েছে বুধবার, ১০ মার্চ, ২০২১
  • ৪৪৩ বার পড়া হয়েছে

মৌমিতা রায় ও সাথী বসু : বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চলতি মাসেই বাংলাদেশ সফরে আসছেন। সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠান ছাড়াও ভারতের প্রধানমন্ত্রী তার সফর সুচির অংশ হিসেবে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর এলাকার যশোরেশ্বরী কালিমন্দির এবং গোপালগঞ্জ জেলার মতুয়া সম্প্রদায়ের শশ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি পরিদর্শন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। গোপালগঞ্জের ওড়াকান্দি ও শ্যামনগরের ্ঈশ্বরীপুরে মোদির সফর সূচিকে কেন্দ্র করে খুশির জোয়ার বাইছে এলাকার সর্বস্তরের মানুষের।


বিভিন্ন মাধ্যমে জানা গেছে, ২৭মার্চ বিকেলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাতক্ষীরার শ্যামনগরের ঈশ্বরীপুর যশোরেশ্বরী মন্দিরে পৌছে ঐতিহাসিক এই মন্দির প্রদক্ষিণ করবেন। পুজো দেয়ার মাধ্যমে প্রার্থনা করবেন। স্থানীয় উপস্থিত দর্শকের ও পুণ্যার্থীদের সৌজন্য-শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করবেন। পরে হেলিকপ্টারযোগে দমদমের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। মোদির সফরকে কেন্দ্র করে ৩টি হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হচ্ছে। নিছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছে দেশের নিরাপত্তা রক্ষাকারি বাহিনী। নিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে সার্বিক বিষয়টি বার বার খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতমধ্যে বাংলাদেশ ও ভারতের নিরাপত্তা টীমের সদস্যরা ঘটনাস্থল সফল করেছেন।
এর আগে এদিন সকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জ জেলার মতুয়া সম্প্রদায়ের শ্রীধাম ওড়াকান্দি ঠাকুর বাড়ি পরিদর্শন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়িও সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে মোদিকে স্বাগত জানানোর জন্যে। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর শ্রীধাম ওড়াকান্দির ঐতিহাসিক সফরকে স্মরণীয় করে রাখার জন্যে হাজার হাজার ভক্তবৃন্দ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বলে মতুয়া সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সতীশ চন্দ্র মিত্রের রচিত ‘যশোর খুলনার ইতিহাস’ থেকে যশোরেশ^রী কালিমন্দির প্রতিষ্ঠার বিষয়ে জানা যায়, ১৫৬০ থেকে ১৫৮০ সাল পর্যন্ত রাজা লক্ষণ সেনের রাজত্বকালে তিনি স্বপ্নে আদিষ্ট হন ঈশ^রীপুর এলাকায় একটি কালি মন্দির নির্মাণ করতে হবে। মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়। পরে সেটি বন্ধ রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে মন্দিরটি জঙ্গলাকীর্ন হয়ে ওঠে। সে সময় শ্যামনগরের ধুমঘাট ছিল বাংলার ১২ভূঁইয়ার এক ভূঁইয়া রাজা প্রতাপাদিত্যের রাজধানী। রাজা প্রতাপাদিত্য এ সময় দেখতে পান ওই জঙ্গল থেকে এক ধরনের আলোক রশ্মি বেরিয়ে আসছে। তিনি তখন মন্দিরটি খুলবার নির্দেশ দেন। মন্দিরটি খুলেই সেখানে দেখা মেলে চন্ডভৈরবের আবক্ষ শিলামূর্তি। তখন থেকে সেখানে পূজা অর্চনা শুরু হয়। শ্রী সতীশ চন্দ্র মিত্র তার যশোর খুলনার ইতিহাসে যশোরেশ্বরী মন্দির সম্পর্কে এসব কথা লিখেছেন।


অপরদিকে ইতিহাসবিদদের মতে, আনারি নামের একজন ব্রাক্ষ¥ণ এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। এর ১০০টি দরজা ছিলো। এখান থেকেই আলোর রেখা জঙ্গল ফুড়ে বেরিয়ে আসতো। মানুষের হাতের তালুর আকারের এই আলোকরেখা রাজা প্রতাপাদিত্য দেখতে পান। ইতিহাসের তথ্য অনুযায়ী আরও জানা যায়, দক্ষ রাজার কনিষ্ঠ কন্যার নাম ছিল সতীবালা। তিনি জন্ম থেকে মহাদেবের পূজারিনী ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি স্বেচ্ছায় মহাদেবকে বিবাহ করেন। এতে দক্ষ রাজার ঘোর আপত্তি ছিল। তার জামাতা জঙ্গলে ঘুওে বেড়াবে, মাথায় জটা থাকবে, গন্ডদেশে সাপ থাকবে, হাতে ত্রিশূল থাকবে এবং তিনি পশুর চামড়া পরিধান করবেন এমনটি হতে পারে না। এ কারণে জামাতাকে মেনে নেননি দক্ষ রাজা। জানা যায়, এক অনুষ্ঠানে দক্ষ রাজার উপস্থিতিতে মহাদেব আসেন। কিন্তু মহাদেব দক্ষ রাজাকে তার শ^শুর বলে পরিচয় দেননি। এতে তিনি চরম অপমানবোধ করেন। পরে ফিরে গিয়ে শুরু করেন দক্ষযজ্ঞ। এই দক্ষযজ্ঞে সতীবালা ও মহাদেব নিমন্ত্রিত ছিলেন না। এতে অপমান বোধ করেন সতীবালা। সতীবালার সঙ্গে বাবা দক্ষের এই নিয়ে বাকবিতন্ডা হয় এবং একপর্যায়ে সতীবালা ব্র²ার কাছে নিবেদন করে বলেন আমার মৃত্যু দাও। কিছুক্ষনের মধ্যেই সতীবালা দেহত্যাগ করেন। এখবর পেয়ে কৈলাস থেকে দ্রুতবেগে নেমে আসেন মহাদেব। তিনি দক্ষ রাজার মুন্ডু কর্তন করে বলির জন্য নিয়ে আসা ছাগলের মুন্ডু কেটে সেখানে বসিয়ে দিয়ে দক্ষযজ্ঞ লন্ডভন্ড করে দেন। পরে তিনি মৃত স্ত্রী সতীবালাকে কাঁধে নিয়ে কৈলাস পাহাড়ে গিয়ে রাগে ক্ষোভে ও দুঃখে ব্রক্ষ্মান্ড ধ্বংস কওে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। এ খবর পেয়ে ব্র²া ও নারায়ন সিদ্ধান্ত নিলেন, মহাদেবকে ঠান্ডা করতে হলে তার কাছ থেকে সতীবালার মৃতদেহ সরিয়ে নিতে হবে। সে অনুযায়ী ত্রিশূল দিয়ে সতীবালাকে ৫১খন্ড করে ত্রিশূলে ঘোরানো হয়। এর একখন্ড এসে পড়ে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ^রীপুর গ্রামে। সেখানেই প্রতিষ্ঠিত হয় যশোরেশ^রী কালিমন্দির। অপর খন্ডগুলি পশ্চিমবঙ্গের কালিঘাট, আফগানিন্তান, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল।
আরো জানা যায়, ঈশ^রীপুর এলাকায় যশ নামের একজন খেয়ামাঝি ছিলেন। তাকে ঈশ^র বলেও ডাকতো কেউ কেউ। এক রাতে এক নারীমূর্তি খেয়া মাঝিকে বলেন, তাকে নদী পার করিয়ে দিতে হবে। তিনি পার করার সময় অন্ধকাওে দেখতে পান ওই নারীমূর্তিকে কেন্দ্র করে পুরো নৌকা এবং নদীতে আলোকবর্তিকা ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি তাকে প্রনাম করেন এবং তার কাছে আশির্বাদ চান। পরে ঈশ^রীপুওে যে মন্দিরটি স্থাপিত হয় তার নাম দেয়া হয় ‘যশোরেশ^রী’ কালিমন্দির। সেখানেই রয়েছে চন্ডভৈরবের আবক্ষ মূর্তি শক্তিপীঠ। পূজার সময় সেখানে উচ্চারিত হয় ‘দক্ষযজ্ঞ বিনাশান্নই মহাঘোরায়োই যোগিনী কোটি পরিবৃতা ওই ভদ্রকল্লোই নমো নমোহ’।
এদিকে মোদির সফরকে কেন্দ্র করে যশোরেশ^রী কালিমন্দিরের পুরোহিতের দিলীপ মুখার্জী জানান, এই মন্দিরে প্রতিবছর শ্যামা কালীপুজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এছাড়া প্রতি শনি ও মঙ্গলবার মন্দিরে পূজা অর্চনা হয়। এসব পূজা অর্চনায় শতশত ভক্তের সমাগম ঘটে। ভারতীয় অর্থায়নে সম্প্রতি মন্দিরটি সংস্কারের মাধ্যমে নতুনভাবে নির্মিত হয়েছে। মন্দিরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আসবেন, এটাতো ঐতিহাসিক বিষয়। আমরা আনন্দিত, উদ্বেলিত। হাজারো পুণ্যার্থী অপেক্ষায় আছে মন্দির উদ্বোধনের।
সাতক্ষীরা জেলার মতুয়া সম্প্রদায়ের সভাপতি কৃষ্ণান্দ মুখার্জী জানান, নরেন্দ্র মোদীর আগমন উপলক্ষে মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে খুশীর জোয়ার বইছে। মোদি গোপালগঞ্জে মতুয়া মন্দিরে যাবেন এবং তিনি সাতক্ষীরায় মতুয়া এলাকায় আসবেন পরে যশোরেশ্বরী মন্দিরে। আমরা আনন্দিত।

 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
ডিজাইনঃ নাগরিক আইটি (Nagorikit.com)